স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়

0
163
স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়
স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়

আমদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন দেখে থাকে। কিন্তু তারা কিভাবে স্কলারশিপ পাওয়ায় উপায় আছে তা তাদের জানা নেই। মেধা ও সৃজনশীলতা তাহার পরও তারা অনেকেই সফলতা পায় না। আর আমাদের এই পোষ্টটি তাদের জন্য। যারা স্কলারশীপ পেতে চায় তাদের এই বিষয়গুলো জানা অতি জরুরী।

আমাদের দেশে বেশির ভাগ ছেলে মেয়েরা এস, এ, সি বা এইচ, এ, সি পাস করার পর তারা বিদেশে স্কলারসশিপ পাওয়ার জন্য আবেদন করে থাকে। কিন্তু তবে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় সম্পর্কে কম ধারণা থাকার কারনে অনেকেই সঠিক পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারে না। আর তাই প্রায় ছাত্র ছাত্রীর উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যায়।

আজ আমরা এই পোষ্টটিতে জানাব স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় সম্পর্কে সকল তথ্য। । আমাদের এ আলোচনায় থাকবে স্কলারশিপ কি, স্কলারশিপ কখন পাওয়া যায় এবং স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় সহ আরও অনেক তর্থ। আর আপনারা স্বপ্ন পূরণের স্কলারশিপ সম্পর্কে আমাদের এই পোষ্টটি সম্পূর্ন পড়ুন।

স্কলারশিপ কি ও কত প্রকার

স্কলারশিপ হল ছত্র-ছাত্রীদের কে দেওয়া আর্থিক সহায়তা। যা তার একাডেমিক কৃতিত্ব বা অন্যান্য মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। যা তার একাডেমিক কৃতিত্ব বা অন্যান্য মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। আর এই স্কলারশিপকে বৃত্তি, ছাত্রবৃত্তি বা শিক্ষাবৃত্তি বলা যায়। মেধাবি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আংশিক বা সম্পূর্ণ বিনা খরচে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দেয়। দেয়। এটিই মূলত স্কলারশিপ। মূলত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অর্জনের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়ে থাকে।

স্কলারশিপ দুই প্রকারঃ

০১। Full Scholarship

০২। Partial Scholarship

০১। Full Scholarship বা পূর্ণবৃত্তিঃ যেখানে একজন শিক্ষার্থীর সমস্ত টিউশন ফি বিনামূল্যে করা হয়। Full Scholarship এ বই কেনার খরচও কখনো কখনো প্রতিষ্ঠান বহন করে এবং মাসিক উপবৃত্তি প্রদান করে।

০২। Partial Scholarship বা আংশিক বৃত্তিঃ এখানে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক টিউশন ফি বাতিল করা হয় না। এ ধরনের বৃ্ত্তিতে Full Scholarship এর তুলনায় তুলনামূলক কম অর্থ প্রদান করা হয়।

এই স্কলারশিপ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। স্কলারশিপ হচ্ছে, আপনার পড়ালেখার সম্পূর্ণ খরচ অথবা এককালীন কয়েকশত ডলার পুরষ্কার। তবে যেভাবেই হোক না কেন, স্কলারশিপের জন্য আবেদন করার বিশেষ কারণ হলো, এটি আপনার শিক্ষার ব্যয় অনেকাংশে কমিয়ে দিতে সাহায্য করবে। যা আপনাকে উচ্চ শিক্ষার জন্য আগ্রহ বাড়িয়ে দিবে।

স্কলারশিপের ধরণঃ অনেক কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন সংস্থা বা নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে মেধা ভিত্তিক স্কলারশিপ পায়। তবে আপনাকে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতেই হবে। তাই আপনকে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় আগে নির্ধারিত শর্ত ও যোগ্যতার মান পূরণ করেই অংশগ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া সম্ভব নয়।

আর এই সব অর্জন হল একাডেমিক অর্জন বা বিশেষ কোন প্রতিভা, বৈশিষ্ট্য বা আগ্রহের সংমিশ্রণ। তবে কিছু স্কলারশিপ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করেও বৃত্তি প্রদান করে থাকে। কিছু প্রতিষ্ঠান এমনও আছে, যারা নির্দিষ্ট একটি শ্রেণিকে বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ দিয়ে থাকে যেমন শুধুমাত্র মহিলা বা স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্যে বিশেষ এক ধরনের স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে দিয়ে থাকে।

তবে বিশেষ কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা আপনি অথবা আপনার মা-বাবা কাজ করলেও স্কলারশিপ পাওয়া যায়। পাশাপাশি কিছু স্কলারশিপ Family Background এর ওপর ভিত্তি করেও দেওয়া হয়। যেমন সামরিক পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ স্কলারশিপের ব্যবস্থা রয়েছে। আর তারা এই স্কলারশিপ পেয়ে থাকে।

স্কলারশিপ কখন পাওয়া যায়

স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়, আপনাকে আগে জানতে হবে কখন স্ক্লারশিপ পাওয়া যায়। এইস, এ, সি বা অনার্চ পাস করে বিদেশে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় হয় কি না। এইস, এস, সি ও অনার্চ এই দুই স্তরের মধ্যে এইচ, এস, সি পাস করে স্কলারশিপ পাওয়া সহজ। তবে আপনি এইচ,এস,সি বা অনার্স যে স্তরেই স্কলারশিপই চান না কেন, এটি পেতে হলে প্রয়োজনীয় সকল যোগ্যতা ও শর্ত পালন করতে হবে। তা না হলে সম্ভব না।

যেহেতু প্রতিটি স্কলারশিপ একটি নির্ধারিত সময়সীমার ওপর নির্ভর করে তাই শিক্ষার্থীর এ সময়ের মধ্যেই আবেদন করতে হয়। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রথম বর্ষ থেকে শুরু থেকে পড়াশোনা চলাকালীন সময়ে আবেদন করে থাকে। তাই এই মুহূর্তে আপনি কোন শ্রেণিতে আছেন এবং স্কলারশিপের যাবতীয় বিষয় গবেষণা করে আবেদন করা উচিত। তা না হলে আপনি কখনো স্কলারশিপ পাবেন না।

বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা সংস্থ্যা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন বেধে দেয়। যেমন ক্রীড়া ও প্রতিভাভিত্তিক বৃত্তি পেতে হলে আপনাকে আপনার পারফরম্যান্সের ওপর একটি পোর্টফোলিও বা ক্রীড়াবিষয়ক ডকুমেন্টারি সাবমিট করতে হবে। কিন্তু তবে আপনাকে বিষয়ভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য এগুলোর প্রয়োজন হয় না।

স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় কি কি

স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় – আপনি যদি এইচ এস সি পাস করে বিদেশে স্কলারশিপ নিতে চান তাহলে এইচ,এস,সি তে থাকা অবস্থায়ই নিজের একাডেমিক অর্জন সুদৃঢ় করতে হয়। আর আপনি যদি এই স্তরে ভালো করতে পারলে স্কলারশিপ পাওয়ার পথ অনেকটা মসৃণ হয়।

এক একটি স্কলারশিপের এক একটি নিজস্ব আবেদন প্রক্রিয়া থাকে। আপনি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় সকল যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবেন। আর আপনি সেখানে সকল ধরনের তথ্য পেয়ে যাবেন।

কিছু কিছু অর্থ প্রদানকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান তারা আপনাকে আবেদন করতে বলবে। আর বেশির ভাগ আবেদন অনলাইনে সাবমট করতে হয়। একাডেমিক ভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য সাধারণত ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমানের প্রয়োজন হয়ে থাকে। পাশাপাশি কোন কোন বিষয়ে দক্ষতা আছে, তার ওর একটি আর্টিকেল সাবমিট করতে হয়।

এক্ষেত্রে আপনার প্রথম কাজ হবে, আপনি যখন আপনার আবেদন পত্রটি পাবেন তখন সেই আবেদন পত্রটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। তারপর সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পূরণ করুন ও নিশ্চিত করুন যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আপনার আবেনটি স্কলারশিপ দাতার কাছে পৌঁছাবে।

স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা

স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা – বিশ্বের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা যারা স্কলারশিপ পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করে থাকে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক শ্রেনিতে ভর্তির জন্য Scholastic Assessment Test এর স্কোর চাওয়া হয়। তাই উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে SAT স্কোর বৃদ্ধিতে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

তাছাড়া আপনি বিভিন্ন সেবামূলক, প্রতিযোগিতামূলক বা সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন তাহলে এইগুলা আপনাকে স্কলারশিপ পেতে অনেকটাই সাহায্য করবে। আপনি বিভিন্ন অলিম্পিয়াড, ভলান্টিয়ারিং বা সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করতে পারেন। আর এই কাজ গুলো আপনাকে সার্টিফিকেটের অতিরিক্ত সুবিধা দিবে। যার কারনে আপনি স্কলারশিপ পাওয়ার অগ্রাধিকার পাবেন।

অতি জরূরী একটা বিষয় হল স্কলারশিপের আবেদনের জন্য সুপারিস পত্র। আপনার সুপারিস পত্র উল্লেখ থাকতে হবে ইন্টারেস্ট, সামাজিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের ক্ষমতা সম্পর্কে উল্লেখ থাকতে হবে। আর এই সুপারিস পত্র এমন একজনকে দিয়ে লেখাবেন যিনি আপনার সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানে।

আপনি স্কলারশিপ পেতে চাচ্ছেন, ইংরেজি জানেন না তা কি করে হয়? আপনার অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি অবশ্যই ইংরেজিতে কথা বলা ও বোঝার দক্ষতা থাকতে হবে। এক্ষেত্রে IELTS এবং TOEFL স্কোর আপনার ইংরেজির দক্ষতা প্রমাণ করবে। আপনি এখন স্মার্টফোনে Android App এর মাধ্যমেই ঘরে বসে IELTS প্রাকটিস করতে পারেন।

স্কলারশিপের অর্থ কিভাবে পাবেন

কিভাবে আপনি অর্থ পাবেন বা তারা কিভাবে দিবে তা নির্ভর করে একমাত্র একমাত্র স্কলারশিপ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের উপর। তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠা আপনি যে কলেজে পড়েন সেই কলেজে টাকা পাঠিয়ে দেয়। আর আপনার কর্তৃপক্ষ সেখান থেকেই যাবতীয় খরচের টাকা সমকন্বয় করে নেয়। কিন্তু আবার কিছু কিছু অর্থপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান চেকের মাধ্যমে আপনার কাছে সরাসরি সেই টাকা পাঠিয়ে দেয়।

শেষ কিছু কথা

প্রিয় বন্ধুরা, কিভাবে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় আছে তা আপনারা জানতে পারলেন। এবার আপনার কাজ হল- এটি পাওয়ার জন্য নিজেকে যোগ্য করে তোলা। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনি যদি স্কলারশিপ পেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার যোগ্যতা ও প্রতিভা থাকতে হবে। তা ছাড়া সম্ভন না। কারণ, একজন ভালো ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে তারা স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। সে যেন এই উচ্চ শিক্ষা করার পর দেশ ও সমাজের জন্য কিছু করতে পারে। আর তাই নিজেরে যোগ্য করে তুলুন। আপনি যদি স্কলারশিপ পেয়ে যান তাহলে আপনাকে দেখে অনেকেই অনুপ্রানিত হবে। আর তারাও চাইবে নিজেকে স্কলারশিপের জন্য নিজেকে যোগ্য করারা জন্য। আর তাই আপনি নিজের সুন্দর একটা ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন এবং অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করুন।

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা এই ছিল স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় সম্পর্কে আলোচনা। আপনারা সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এই কামনায় আজকের মত শেষ করছি। আর আপনারদের কেমন পোষ্ট পছন্দ তা আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাবেন।

আল্লাহ হাফেজ।