মেক্সট স্কলারশিপ জাপান

0
223
মেক্সট স্কলারশিপ জাপান
মেক্সট স্কলারশিপ জাপান

জাপান সরকার বিদেশি ছাত্র ছাত্রীদের আর্থিক সচ্ছলতা কাটানোর জন্য মেক্সট স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। মেক্সট স্কলারশিপ ছাড়াও আরো অনেক স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। আজকের আলোচ্য বিষয় হল মেক্সট স্কলারশিপ ।

উচ্চ শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় উল্লেখযোগ্য দেশ হল জাপান। জাপানের ইউনিভার্সিটি গুলো ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং এ অনেক উপরে রয়েছে। সব চাইতে বড় সুবিধা হলো জাপানে আপনার পড়াশুনা শেষে জবের সুযোগ রয়েছে। আর আপনি চাইলে সেখানে সহজেই বসতি স্থাপন করতে পারবেন। যেটা অন্যান্য দেশে অনেকটা কঠিন।

উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে চাইলেও অনেক বাধা বিপত্তির কারনে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে না। এর সব থেকে বড় কারন হলো আর্থিক অসচ্ছলতা। এই আর্থিক অসচ্ছলতার প্রতিবন্ধকতাকে কাটাতে জাপান সরকার বিভিন্ন স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। সেই সব স্কলারশিপের মধ্যে মেক্সট স্কলারশিপ অন্যতম। মেক্সট স্কলারশিপ কে মনবুশো বৃত্তি ও বলা হয়ে থাকে।

আজকে আমরা এই মেক্সট স্কলারশিপ নিয়ে আলোচনা করবো যেটা জাপান সরকার কর্তৃক দেয়া হয়ে থাকে। জাপান সরকার বরাবরই শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সেকারনেই আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান সরকার প্রতি বছর স্কলারশিপের আয়োজন করে থাকে।

জাপানের মেক্সট স্কলারশিপটি আপনি দুই ভাবে পাওয়া যায়। প্রথমত বাংলাদেশে অবস্থিত জাপানের দূতাবাসের মাধ্যমে আপনি এই মেক্সট স্কলারশিপ টি পেতে পারেন। দ্বিতীয়ত হচ্ছে আপনি জাপানের যে ভার্সিটিতে পড়তে চাচ্ছেন সেই ভার্সিটির প্রফেসরদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে আপনি মেক্সট স্কলারশিপ টি পেতে পারেন। এই দুটি উপায়ের যে ভাবেই আপনি মেক্সট স্কলারশিপ পান না কেন তাদের সুযোগ সুবিধা প্রায় একই হয়ে থাকে।

মেক্সট স্কলারশিপ এর ক্যাটাগরিঃ

স্নাতকঃ পলিটিক্স, সোশ্যায়োলোজি, লিটারেচার, হিস্ট্রি ও জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ ইকোনমিক্স আর বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক স্টাডিজ, মেকানিক্যাল স্টাডিজ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেরিটাইম ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, কেমিক্যাল স্টাডিজ ও বায়োটেকনোলজি। ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক স্টাডিজ, মেকানিক্যাল স্টাডিজ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেরিটাইম ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, কেমিক্যাল স্টাডিজ ও বায়োটেকনোলজি। এই কোর্স গুলো সম্পন্ন করতে সময় লাগে চার বছর কিন্তু মেডিক্যাল কোর্সের সময় একটু বেশি লাগে। মেডিক্যাল কোর্স করতে সময় লাগে ছয় বছর।

কলেজ অব টেকনোলজিঃ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন, কমিউনিকেশন অ্যান্ড নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার অ্যান্ড সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেরিটাইম ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি। এসব কোর্সের অধিকাংশ কোর্স করতে সময় লাগে তিন বছর। তবে মেরিটাইম ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে সময় লাগে সাড়ে চার বছর।

স্পেশালাইজড ট্রেনিংঃ টেকনোলজি, পার্সোনাল কেয়ার এবং নিউট্রিশন, এডুকেশন এবং ওয়েলফেয়ার, বিজনেস, ফ্যাশন এবং হোম ইকোনমিক্স,কালচার এবং জেনারেল এডুকেশনের মতো নানা বিষয়ে। সাধারণত এই সমস্ত কোর্সের মেয়াদ দুই বছর হয়ে থাকে।

মেক্সট স্কলারশিপ এর সুযোগ সুবিধাঃ

০১। মাস্টার্স অথবা পিএইচডি এর ক্ষেত্রে আপনাকে প্রতিমাসে দিবে প্রায় ১১০০০০ (এক লক্ষ দশ হাজার) টাকা।
০২। ব্যাচেলর (আন্ডারগ্রাজুয়েট) এ আপনার জন্য বরাদ্দ প্রায় ৯০০০০(নব্বই হাজার) টাকা
০৩। আপনাকে টিউশন ফি দিতে হবে না সেটা মেক্সট স্কলারশিপ দিয়ে দিবে। এয়ার টিকেট আপনাকে দেয়া হবে অর্থাৎ আপনি যখন জাপানে আসবেন এবং কোর্স শেষে দেশে যাবেন তখন আপনাকে বিমান ভাড়া দিতে হবে না।

বাংলাদেশে অবস্থিত জাপানের দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনঃ

বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে (এপ্রিল/মে) সার্কুলার দিয়ে থাকে। এই সময়টাতে আপনাকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদন করার পর আপনাকে একটা পরিক্ষা দিতে হবে। পরিক্ষাটি হবে জুলাই মাসে। আর এই পরিক্ষাটি জাপানের দূতাবাস কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হবে।

পরিক্ষা হবে ইংরেজি, গনিত, পদার্থ, রসায়ন ও বায়োলজির উপর ভিত্তি করে। এই লিখিত পরিক্ষায় পাশ করলে আপনাকে ভাইভার জন্য ডিসেম্মবরে ডাকা হবে আর আপনাকে ফাইনাল রেজাল্ট দেয়া হবে। আপনি যদি ফাইনালে পাশ করে যান তাহলে আপনাকে জানুযারীতে আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার জন্য যেতে পারবেন। ক্লাস শূরু হবে জাপানে মার্চ মাস থেকে।

আবেদনের যোগ্যতা

ব্যাচেলরের ক্ষেত্রেঃ

আপনি যদি সাইন্স নিয়ে পড়ে থাকেন তাহলে আপনার দুটো পরিক্ষায় এ প্লাস থাকতে হবে। মানবিক এবং বানিজ্য বিভাগের হলে আপনার ৪.৫ হলেই হবে এসএসসি ও এইচএসসি তে।

০১। আপনার বয়স ২২ বছরের মধ্যে থাকতে হবে।
০২। আপনার কমপক্ষে ১২ বছরের একাডেমিক পড়াশুনা থাকতে হবে।

মাস্টার্স এর ক্ষেত্রেঃ

০১। আপনাএ ১৬ বছরের একাডেমিক পড়াশুনা থাকতে হবে।
০২। আপনার বয়স সর্বোচ্চ ৩৫ হতে হবে এর বেশি হলে আবেদন করতে পারবেন না।

পিএইচডি এর ক্ষেত্রেঃ

আপনার বয়স ৩৫ এর মধ্যে হতে হবে। এখানেও এই বয়সের বেশি গ্রহনযোগ্য না। এক্ষেত্রে আপনার একাডেমিক যোগ্যতা হতে হবে কমপক্ষে ১৮ বছর।

আর যদি মার্কস এর কথা বলি মাস্টার্স এর ক্ষেত্রে তাহলে আপনার সিজিপিএ লাগবে ৩.৫ এর উপরে। পি এইচ ডি এর ক্ষেত্রেও মার্কস আপনার ৩.৫ লাগবে এটা সর্বোনিম্ন।

ইউনিভার্সিটি ট্রাকিং করে মেক্সট স্কলারশিপ যেভাবে নিবেনঃ

ইউনিভার্সিটি ট্রাকিং মুলত মাস্টার্স এবং পিএইচডি এর জন্য। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি গুলোতে প্রফেসরদের খোজার মত করে আপনি জাপানেও বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির ওয়েব সাইটে গিয়ে প্রফেসর খুজবেন আর তাকে কনভেন্স করার চেষ্টা করবেন।

সেই সাথে তাদের রিসার্চ এরিয়া খুজবেন। যদি আপনার বিষয়ের সাথে বা চিন্তাধারার সাথে মিলে যায় তাহলে আপনি তাকে ইমেইল করবেন। সেখানে উল্লেখ করবেন যে আপনি তাদের এই বিষয়ে আগ্রহী আপনি তাদের সাথে কাজ করতে চান।

প্রফেসর আপনার ইমেইল চেক করবে কিন্তু একটু সময় লাগবে কারন তারা ব্যস্ত থাকে। প্রফেসর আপনার ম্যানেজ হয়ে গেলে পরবর্তী ধাপ বা কি করতে হবে সেটা আপনাকে প্রফেসরই বলে দিবে। আপনি শুধু আপনার কাগজ পাতি ঠিক রাখবেন।

মাস্টার্স বা পিএইচডি এর জন্য কোন এক্সাম নেই আপনাকে হয়তো খুব সল্প সময়ের জন্য একটা ইন্টারভিউ দিতে হবে। আর তা না হলে ইন্টারভিউ বোর্ড থাকবে তাদের সামনে যেতে হবে।

এভাবে আপনি ইউনিভার্সিটি ট্রাক করে মেক্সট স্কলারশিপ নিয়ে জাপানে পড়তে যেতে পারবেন।

মেক্সট স্কলারশিপ এর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টঃ

০১। বৃত্তির আবেদন ফর্ম
০২। Mark sheet
০৩। SSC Certificate
০৪। HSC Mark sheet
০৫। HSC Certificate
০৬। পাসপোর্ট
০৭। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
০৮। মেডিকেল রিপোর্ট
০৯। জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম সনদ
১০। অধ্যয়ন পরিকল্পনাটি ইংরেজি ভাষায় লিখতে হবে
১১। ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সনদ( থাকলে আপনার জন্য খুবই ভালো)

এছাড়াও বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য বিভিন্ন ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়। আপনি আপনার প্রোগ্রামের জন্য যেসব ডকুমেন্ট প্রয়োজন সেসব সেই প্রোগ্রামের ওয়েবসাইটে দেখে নিতে পারেন। আপনারা বাংলাদেশে অবস্থিত জাপানের এম্বাসির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখে নিতে পারেন কোন কোন প্রোগ্রামের জন্য কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন।

বাছাই প্রক্রিয়াঃ

প্রাথমিক আবেদনের পর জাপান এম্বাসি প্রাথমিক ভাবে শিক্ষার্থীর আবেদনের ভুল বের করে তাদের বাতিল করে দিবে। যারা এখানে টিকে যাবে তাদের একটি লিখিত পরিক্ষা দিতে হবে। যারা এই পরিক্ষায় নির্বাচিত হবে তাদের ইন্টারভিউ নেয়া হবে। যারা আসলেই মেক্সট স্কলারশিপের জন্য যোগ্য তাদের নির্বাচন করা হবে। যদি আপনি এই সব ধাপ পার করে আসতে পারেন তাহলে আপনি স্কলারশিপ টা পেয়ে যাবেন।

তো বন্ধুরা আর দেরি না করে এখন থেকেই জাপানের মেক্সট স্কলারশিপ এর জন্য প্রস্তুতি নিন। এবং আপনারা সবাই মেক্সট স্কলারশিপ এর আবেদন করে ফেলুন। সবার সাফল্য কামনা করছি। আর নিয়মিত বিদেশের উচ্চ শিক্ষা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

আরো পড়ুন তুরস্কে ফুল স্কলারশিপ – বুরসলারি স্কলারশিপ। ধন্যবাদ।