ফ্রান্সে কম খরচে পড়াশোনা বিস্তারিত তথ্য

0
232
ফ্রান্সে কম খরচে পড়াশোনা বিস্তারিত তথ্য টিউশন ফি
ফ্রান্সে কম খরচে পড়াশুনার বিস্তারিত তথ্য

উচ্চশিক্ষার জন্য এখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অনেক দেশে পড়াশোনা করতে যায়। এর মধ্যে অন্যতম দেশ হল ফ্রান্স। ফ্রান্স পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশিদের আগ্রহের তালিকায় থাকার কারন ফ্রান্সে কম খরচে পড়াশোনা করা যায়। ফ্রান্সে পড়াশোনার জন্য টিউশন ফি অনেক কম এবং ফ্রান্সের মানুষ এবং সেখানকার পরিবেশ অনেক বন্ধুসুলভ। ফ্রান্সে অনেক নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে কম খরচে পড়াশোনা করা যায়।

আজকে আমরা আলোচনা করবো ফ্রান্সে কম খরচে পড়াশোনা নিয়ে। আমাদের অনেকেই আছে ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী কিন্তু টাকা ও সঠিক তথ্যের অভাবে ফ্রান্সে পড়াশোনা করা হয়ে ওঠে না। আজকে আমরা জানবো ফ্রান্সে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কম খরচে পড়াশোনা করা যায় এবং সেখানের টিউশন ফি কেমন এবং নানা রকম সুবিধা নিয়ে। চলুন শুরু করা যাক-

ফ্রান্সে কম খরচে পড়াশোনা করার বিশ্ববিদ্যালয়

পশ্চিম ইউরোপের এই দেশটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে খুবই উন্নত। শক্তিশালি অর্থনীতি উন্নত জীবন ব্যবস্থা এবং মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা থাকায় বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এই ফ্রান্সে আসে শিক্ষা লাভের জন্য। কেননা ফ্রান্সে শিক্ষার মান খুবই উন্নত এবং এদেশের ডিগ্রী আর্ন্তজাতিক ভাবে স্বীকৃত। ফ্রান্সের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‍্যাংকিং এ এগিয়ে রয়েছে। ফ্রান্সে কম খরচে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা যায়।

অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এসব দেশের পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী বেছে নিচ্ছেন ইউরোপের এই দেশটি ফ্রান্সকে। প্রতি বছর অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য চলে যান ফ্রান্সে। ফ্রান্সে আরবী শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিকভাবে উন্নত শিক্ষা গ্রহনের পর রয়েছে বিশ্বব্যাপী ক্রিড়া গড়ে তোলার সু্যোগ। ফ্রান্স অনেক বছর থেকে পদার্থ বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, চিকিৎসা শাস্ত্র, জেনেটিক পদার্থ বিদ্যা ও অন্যান্য অনেক বিষয়ের জন্য জনপ্রিয়। ফ্রান্সে উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার মত অনেক কলেজ ও ইউনিভার্সিটি রয়েছে। যেখানে আপনি কম খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন। ফ্রান্সে কম খরচে পড়াশোনা করা যায় এমন বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। যেমনঃ

১। কলেজ অফ ফ্রান্স।
২। ইকোল পলিটেকনিক।
৩। বিশ্ববিদ্যালয় অফ ব্রোদোয়ান।
৪। বিশ্ববিদ্যালয় অফ গ্যানেবল ওয়ান।
৫। বিশ্ববিদ্যালয় অফ লিওয়ান।

এছাড়া ফ্রান্সে আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখান তুলনামূলক সবচেয়ে কম খরচে পড়াশোনা করতে পারবেন।

ফ্রান্সে পড়াশোনা করা যায় যেসব বিষয়ে

ফ্রান্স পড়াশোনার দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। ফ্রান্সের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ওয়ার্ড র‍্যাংকিং এ অনেক এগিয়ে রয়েছে। পড়াশোনার জন্য ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ব্যচেলর masters post graduation, diploma, diploma certificate crocs, PhD কোর্স পদ্ধতি চালু রয়েছে। এছাড়াও MBA, Medicine বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন ফ্রান্সে। সাধারনত Bachelor কোর্সে চার বছর এবং Masters কোর্সের মেয়াদ এক বছর এবং অন্যান্য কোর্স বিভিন্ন মেয়াদে পরিচালিত হয়ে থাকে। উচ্চ শিক্ষার জন্য ফ্রান্সের নাগরিক এবং বিদেশি শিক্ষার্থী দের সু্যোগ সুবিধা প্রায় সমান হয়ে থাকে। এখানে শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে আর শেষ হয় মে-জুন মাসে। এখানে তিন সেমিস্টারে কোর্স পড়ানো হয়ে থাকে।

  • ১ম সেমিস্টার শুরু হয় সেপ্টেম্বর- অক্টোবর মাসে।
  • ২য় সেমিস্টার শুরু হয় জানুয়ারী- ফ্রেরুয়ারী মাসে এবং
  • ৩য় সেমিস্টার শুরু হয় মে-জুন মাসে।

ফ্রান্সে পড়াশোনার জন্য ভাষা

ভাষা অন্যতম একটি উপাদান ফ্রান্সে কম খরচে পড়াশোনা করার জন্য। সাধারনত ফ্রান্সের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ফ্রান্স ভাষায় পড়াশোনা হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি শিক্ষা লাভের সু্যোগ রয়েছে। সেক্ষেতে আপনার IELTS বা TOFEL SCORE থাকতে হবে। undergraduate এর জন্য ৫-৫.৫ IELTS এবং ৫৫০ Tofel score আর post graduation এরর জন্য ৬ IELTS এবং ৬০০ Tofel score থাকতে হবে। ফ্রান্সে বেশি ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বার্ষিক ফি বাবদ ৩-৪ লক্ষ টাকা দিতে হয়। ফ্রান্সে সাধারনত একজন শিক্ষার্থীর থাকা খাওয়া বাবদ মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা লাগে। যা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম খরচ হয় পড়াশোনা করার জন্য।

ফ্রান্সে পড়াশোনার জন্য ভিসা

ফ্রান্সে পড়াশোনার জন্য ভিসা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। ভিসার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে রক্তের সম্পর্কের কেউ sponsor হলে ভিসা পেতে খুব সহজ হয়। তবে শিক্ষার্থীর জন্য যে কাউকে অভিভাবক sponsor করতে পারবেন। আর আপনার যদি পর্যাপ্ত পরিমান টাকা থাকে তাহলে আপনি নিজের নামে ব্যাংক account টাকার হিসাব দেখাতে পারবেন। ফ্রান্সে পড়াশোনার ক্ষেত্রে আপনাকে ১০-১৫ হাজার ইউরো দেখাতে হবে।

ফ্রান্সের কলেজ থেকে অফার latter পাওয়ার পর টাকাটা ব্যাংকে রেখে দূতাবাসে সাক্ষাৎকার দিতে হবে। তারপর ভিসা হলে আপনি টাকাটা তুলে নিতে পারবেন। ফ্রান্সে প্রবেশকালে যদি immigration এ জানতে চায়। আপনার কাছে পর্যাপ্ত পরিমানে টাকা আছে কিনা তাদের দেশে পড়াশোনা করার মত। তখন তাদের কে ব্যাংক solvency নমুনা দেখাতে হবে।

ফ্রান্সে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম জব

কম খরচে পড়াশোনা করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ফ্রান্সে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম জব করতে হবে। ফ্রান্সের আইন অনুযায়ী একজন বিদেশি শিক্ষার্থী বছরে সর্বোচ্চ ৯৪৪ ঘন্টা কাজ করতে পারবে। আর এখানে ফুল টাইম কোর্সের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজ করতে পারবে। তবে ছুটি ও অবসর সময়ে ফুল টাইম কাজ করা যায়। যা মাসে প্রায় ৮০০-১০০০ ইউরো আয় করা যায়। ফ্রান্সে পড়াশোনা শেষ করে জব খোঁজার জন্য এক বছরের ভিসা পাবেন। এই ভাবে আপনি ফ্রান্সে কম খরচে পড়াশোনা করতে পারবেন।

ফ্রান্সে টিউশন ফি কেমন

টিউশন ফি কেমন ফ্রান্সে অনেকেই এই প্রশ্ন করে থাকি। আজকে আমরা জানবো ফ্রান্সে টিউশন ফি কেমন হয়ে থাকে। ফ্রান্সে পড়াশোনা করতে হলে আপনাকে অবশ্যই কিছু নিয়মের ভিতর দিয়ে যেতে হবে। টিউশন ফি আপনাকে দিতে হবে এবং যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন সেই বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করবে আপনার টিউশন ফি। ফ্রান্সে পড়াশোনার জন্য থাকা খাওয়া বাবদ খরচ হয় ৪০০-৬০০ ইউরো। ফ্রান্সে টিউশন ফি অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। আর এই টিউশন ফি নির্ভর করে কোর্স বা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। ফ্রান্সে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠানে হোস্টেলের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া যদি কেউ ইচ্ছে করে ভাড়া বাড়ীতে থাকতে পারবে।

ফ্রান্সে পড়াশোনা করার সুবিধা

পড়াশোনা করার অনেক সুবিধা রয়েছে ফ্রান্সে। পলমোনিয়াম রেসিডেন্স কার্ড যাতে পাসপোর্ট টা আন্তর্জাতিক প্রতিভা গুলির সু্যোগ সুবিধা প্রদান করা হয়। এটি বিশেষ করে তরুন Graduate গবেষক বা যারা গবেষক কোম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা, ডিজাইনার উচু পর্যায়ের Affiliate দের Issue করা হয়। এই কার্ডে আপনি আপনার পরিবারকে ৪ বছরের ভিসা দেওয়া হয়ে থাকে। এই সময় জব করার অধিকার থাকে। আপনি একটানা ৫ বছর বৈধ ভাবে থাকার পর আপনি স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার যোগ্যতা

আবেদনের যোগ্যতাঃ ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীকে নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করতে হবে। এদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাধারনত সেপ্টেম্বর মাসে ভর্তির কার্যক্রম শুরু করে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি বা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েব সাইটের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন করতে হবে। আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ পরবর্তিতে শিক্ষার্থীর করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেবে। তবে শিক্ষার্থীর ভর্তির জন্য সেসন শুরুর কমপক্ষে ১০-১২ সপ্তাহ আগে আবেদন করতে হবে।

ফ্রান্সে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১। শিক্ষার্থীর বৈধ পাসপোর্ট।
২। ফ্রান্সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তির প্রমানপত্র।
৩। শিক্ষাকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় খরচাপাতির সামথ্যের প্রমানপত্র (স্পন্সর)।
৪। সার্টিফিকেট ও মার্কশিটের ফটোকপি এবং
৫। ভিসা আবেদনের জন্য যে সব কাগজ গুলো তা সব সময় প্রয়োজন হয়।

তো বন্ধুরা এই ছিল ফ্রান্সে কম খরচে পড়াশোনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা। আশা করি এই লেখাটি পড়ে আপনাদের কিছু উপকার হবে। আর আপনিও এই সু্যোগটি কাজে লাগাতে পারেন। ধন্যবাদ