উচ্চশিক্ষার সর্গরাজ্য ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা – বিস্তারিত তথ্য

0
212
উচ্চশিক্ষার সর্গরাজ্য ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা জন্য আনেদন ও কাগজপত্র ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা
উচ্চশিক্ষার সর্গরাজ্য ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা - বিস্তারিত তথ্য

নরডিক দেশ ফিনল্যান্ড কে উচ্চশিক্ষার সর্গরাজ্য বলা হয়। কেননা উচ্চশিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ড প্রথম সারির দেশ। ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা গ্রহনের আগ্রহের প্রধান কারণ বিনা টিউশন ফি তে পড়াশোনা করা যায় ফিনল্যান্ডে। আজকে আনরা আলোচনা করবো ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা ও ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সুবিধা , উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন , প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দেশ হিসেবে ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা গ্রহন কতটা নিরাপদ এই সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল –

উচ্চশিক্ষার সর্গরাজ্য ফিনল্যান্ড

উত্তর ইউরোপের নরডিক দেশগুলোর একটি হলো ফিনল্যান্ড। ইউরোপ মহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন কারণেই ফিনল্যান্ড বিখ্যাত। তবে সাধারণ বাংলাদেশিদের অনেকের কাছেই নকিয়ার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত ফিনল্যান্ড। ফিনল্যান্ডকে উচ্চশিক্ষার সর্গরাজ্য ও বলা হয়।

ফিনল্যান্ড হচ্ছে ‘হ্রদ’ আর ‘দ্বীপ’-এর দেশ এই শব্দের অর্থ হিসাবে এই দেশের নাম হল- দ্বীপভূমির দেশ। হ্রদের সংখ্যা ৬০ হাজার আর দ্বীপের সংখ্যা সাড় ৬ হাজার। সবচেয়ে বড় হ্রদের নাম ‘সায়মা’। সায়মার আয়তন ৪ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার।

তবে অধিকাংশ হ্রদের আয়তন ২৫ বর্গ কিলোমিটারের নিচে। বেশিরভাগ এলাকা সমতল হলেও এদেশে বেশ কিছু পাহাড়ও রয়েছে। যা ফিনল্যান্ডকে আরও সৌন্দয্য বৃদ্ধি করেছে।

ফিনল্যান্ড আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ৬৫তম। আর ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ৮ম। ফিনল্যান্ডের মোট আয়তন ৩ লক্ষ ৩৮ হাজার ১শ’৪৫ বর্গকিলোমিটার। ২০০৮ সালের হিসেব অনুযায়ী জনসংখ্যা ছিল- ৫৩ লক্ষ ২ হাজার ৭শত ৭৮ জন লোক। জনসংখ্যার দিক থেকে ফিনল্যান্ড বিশ্বের মধ্যে ১১১ নম্বরে আছে।

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা ও ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা

ইউরোপের যে দেশেগুলোতে টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যায় তার একটি হল এই ফিনল্যান্ড। তাই এদেশে প্রতি বছর এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের উদ্দেশ্যে ফিনল্যান্ডে আসে। এই জন্য ফিনল্যান্ড উচ্চশিক্ষার স্বর্গরাজ্য বাংলাদেশিসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের জন্য। ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা অনুযারী ফিনল্যান্ডের শিক্ষা প্রদান করা হয় তাদের রাষ্ট্রভাষা অনুযায়ী।

ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রভাষা হল দুটি- ফিনিশ ভাষা আর সুইডিশ ভাষা। তবে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা অনুযায়ী ফিনিশ ভাষায় পড়াশোনা করানো হয়। সে কারণে, বিশেষ করে স্নাতক স্তরের পড়াশোনার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের ফিনিশ বা সুইডিশ ভাষার ওপর ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। তবে একজন বিদেশিকে অবশ্যই প্রাথমিক ভাষা দক্ষতা হিসেবে ইংরেজি জানতে হবে। তা না হলে আপনি সমস্যায় পড়বেন।

তবে তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে থাকে। ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা গ্রহনের জন্য বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার বিশেষ সুযোগ আছে। এই দেশে অভিবাসী ছেলেমেয়েদের জন্য নিজেদের ভাষা শিক্ষার সুযোগও আছে। যা যুক্তরাজ্যের মতো বহু বর্ণ ও সংস্কৃতির দেশে নেই।

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার কাঠামো ও স্তর বিন্যাস

উচ্চশিক্ষার জন্য ফিনল্যান্ডে ২৭ টি ফলিত বিজ্ঞানের (Applied Sciences) এবং ১৬টি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ফলিত বিজ্ঞানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত পলিটেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ফিনল্যান্ডে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে বড় এবং উন্নত। ১৬৪০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ১৮২৮ সালে হেলসিংকিতে, দেশের রাজধানী  স্থানান্তরিত করে নেওয়া হয়।

উচ্চশিক্ষার সর্গরাজ্য ফিনল্যান্ডের উচ্চশিক্ষার কাঠামো দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। স্নাতক স্তর ও স্নাতকোত্তর স্তর। স্নাতকোত্তকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে- মাস্টার্স ও ডক্টোরাল। উচ্চশিক্ষার এ দু’স্তরে যেসব ডিগ্রি অর্জন করা যেতে পারে, তার মধ্যে হলো- ০১) ব্যাচেলর ডিগ্রি, ০২) মাস্টার্স ডিগ্রি ও ০৩) ডক্টরেট বা পিএইচডি ডিগ্রি।

মাস্টার্স করতে দেড় থেকে দুই বছর লেগে যায় আর ১২০ ক্রেডিট সম্পন্ন করা লাগে। কিন্তু কেউ চাইলে বেশি সময়ও নিতে পারে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে আপনি যাই কিছু করেন না কেন আপনাকে চার বছরের মধ্যেই মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু সাধারণত সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে দুই বছরেই মাস্টার্স শেষ করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়। আর ডক্টরাল কোর্সের জন্য সময় লাগে তিন থেকে ছয় বছরের মত।

ফিনল্যান্ডে ডক্টরেট করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজী ভাষার দক্ষতা থাকতে হবে। আপনি যদি ডক্টরাল কোর্সে ভর্তি হতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই আইইএলটিএস (IELTS) স্কোর অথবা তার সমমানের ইংরেজী ভাষা কোর্সের সার্টিফিকেট থাকতেই হবে। স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তির জন্য ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা গ্রহনে কমপক্ষে আইইএলটিএস স্কোর ৬.৫ প্রয়োজন।

ফিনল্যান্ডে ডক্টরাল কোর্সে ভর্তির জন্য সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে পছন্দের বিষয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তারা আপনাকে ভর্তির সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করবে। ফিনল্যান্ডে ইউরোপীয় দেশের মতোই দুই সেমিস্টারে পড়াশুনা পরিচালিত হয়ে থাকে।

প্রথম সেমিস্টার হলো শরৎকালীন সেমিস্টার আগস্ট থেকে ডিসেম্বর। আর দ্বিতীয় সেমিস্টার হলো বসন্তকালীন সেমিস্টার- জানুয়ারি থেকে জুলাই। একটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার যে, যে কোন বয়সেই ভর্তির জন্য আপনি আবেদন করতে পারবেন। উচ্চশিক্ষার সর্গরাজ্য ফিনল্যান্ডে ব্যাচেলর বা মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার বয়স কোন বাধা নয়।

ফিনল্যান্ডে যে সব বিষয়ে উচ্চশিক্ষা প্রদান করে থাকে

ফিনল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে সাধারণ স্নাতক পর্যায়ের দুই-একটি প্রোগ্রাম ইংরেজী মাধ্যমে হলেও বেশীর ভাগ কোর্সই ফিনিস কিংবা সুইডিশ ভাষায় হওয়ায় এবং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় বলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ কিছুটা সীমিত। তবে কেউ যদি ফিনিস কিংবা সুইডিস ভাষায় পারদর্শী হয় তবে তার জন্য স্নাতক পর্যায়ে রয়েছে শিক্ষার অসাধারণ সুযোগ।

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা এর অধিকাংশ স্নাতক কোর্সই কর্মদক্ষতা তথা পলিটেকনিক ভিত্তিক হয়ে থাকে। পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, ফিনল্যান্ডে স্নাতক স্তরে ভর্তি হতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভর্তির পরিক্ষা দিতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য আপনাকে প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

স্নাতকোত্তর স্তরে ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা অর্জনে ভর্তির জন্য কোন ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে না। অনলাইনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের যোগ্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত ঠিকানায় আপনাকে পাঠিয়ে দিতে হবে। তারপর ভর্তির জন্য বিবেচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় চিঠি কিংবা মেইল দিয়ে জানিয়ে দিবে। এমনকি অফার লেটার পেলে প্রয়োজনে ১ বছরের জন্য ভর্তি ডেফার করা যায়।

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা অর্জনের আবেদনপত্র পূরণের সময় পছন্দের ক্রমানুসারে ৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নির্বাচন করতে হয় এবং আপনাকে সেই চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দিতে হবে। ফিনল্যান্ডে স্নাতক কোর্সে ভর্তির জন্য টোফেল (TOEFL)-এ ৫৫০ স্কোর কিংবা আইইএলটিএস (IELTS)-এ কমপক্ষে ৬.০ স্কোরসহ এইচএসসি বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতার যেকোন ব্যক্তি আবেদন করতে পারবে। এছাড়া এখানে আর কোন ধরা-বাধা নিয়ম নেই।

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন

আমি ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য কিভাবে আবেদন করবো কোথায় আবেদন করবো এই প্রশ্ন অনেকে করে থাকি। আজকে আলোচনা করবো কিভাবে ফিনল্যান্ডে পড়াশোনার জন্য আবেদন করতে হয়। ফিনল্যান্ডের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য ভর্তি হওয়ার জন্য সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে আবেদন পত্র ডাউনলোড করে নিতে হবে। আবার কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করা যায়।

এছাড়া কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাক যোগে মুদ্রিত আবেদন ফরমও সংগ্রহ করা যায়। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ যথাসময়ে আবেদন করার পর আপনাকে অপেক্ষায় থাকতে হবে অফার লেটার পাওয়ারচ জন্য।

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন করার পর এসএসসি ও এইসএসসি-এর নম্বরপত্র, সনদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রসহ যে বিশ্ববিদ্যালয়টি পছন্দের তালিকায় প্রথম থাকবে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি অফিসের ঠিকানায় আপনাকে পাঠিয়ে দিতে হবে।

তারপর সেই বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীকে ভর্তি পরিক্ষার তারিখ ও সময় জানিয়ে ই-মেইল মাধ্যমে জানিয়ে দিবে অথবা আপনাকে চিঠি পাঠিয়ে দিবে। ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণত থাকে সাধারণ গণিত, আইকিউ, বিশ্লেষণাত্মক প্রশ্ন (Analytic Questions) এবং বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন থাকে।

ভর্তি পরিক্ষার নম্বরের উপর ভিত্তি করে পছন্দের ক্রমানুসারে যেকোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভর্তি পরীক্ষা সাধারণত হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার শেষ সময়।

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে হলে সাধারণত আপনাকে আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপতে যেমন- একটি আগ্রহপত্র (Motivation Letter) কিংবা অধ্যয়নের উদ্দেশ্যের বিবৃতি(Statement of Purpose), দুটি প্রত্যয়নপত্রসহ (Reference Letters) সাধারণত শিক্ষকদের কাছ থেকে টোফেল এবং বিষয় ভেদে কখনো কখনো জিআরই ফলাফল দিতে হয়। এছাড়া উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকম কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন-

  • সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র
  • সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট
  • আইইএলটিএস সনদপত্র
  • পাসপোর্ট ফটোকপি
  • পাসপোর্ট সাইজের সম্প্রতি ছবি
  • আবেদন ফি থাকলে তা পরিশোধের রশিদ
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • আর সকল কাগজপত্র ইংরেজি অথবা ফিনিস কিংবা সুইডিস ভাষায় হতে হবে

এছাড়া প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে আবেদনের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়ে থাকে। আর তাই আবেদনপত্র পাঠানোর সময় সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য আপনাকে জেনে নিতে হবে। ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করার সময় আগ্রহপত্র কিংবা অধ্যয়নের উদ্দেশ্যের বিবৃতিটা ভাল করে লিখে নিতে হবে। প্রত্যয়নপত্রের ক্ষেত্রে বিভাগীয় অধ্যাপকের হলে ভাল হয়। কারণ ভর্তির জন্য বিবেচনার ক্ষেত্রে এ দুটো ডকুমেন্ট ও কাগজপত্র বেশ গুরুত্ব দেয়া হওয়ে থাকে।

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যয়

আমরা জানলাম উচ্চশিক্ষার সর্গরাজ্য ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে, ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে তা নিয়ে এখন আমরা জানবো ফিনল্যান্ডে পড়াশোনা করতে কত টাকা লাগে? উচ্চশিক্ষার সর্গরাজ্য ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে টিউশন ফি দেয়া লাগে না। তবে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত কিছু কোর্সে এখন ফি আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকেই অনেক কোর্সে ফি প্রবর্তন করেছে। কোর্স বিশেষে টিউশন ফি ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য বৃত্তি না পাওয়া গেলে শুধু থাকা খাওয়ার খরচ নিজে ব্যবস্থা করতে পারলেই আপনার পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। প্রতি মাসে থাকা খাওয়ার জন্য গড়ে ৩৫০-৩৭০ ইউরো খরচ পড়ে। তবে শেয়ারে থাকলে খরচ অনেক কম পড়বে।

সেক্ষেত্রে আবাসিক ভাড়া দিতে হবে, ২২০-২৪০ ইউরো, খাওয়া খরচ ৮০-৯০ ইউরো এবং আনুসঙ্গিক খরচ ২০-৪০ ইউরোর এই রকম লাগে। স্বাস্থ্যসেবার জন্য বাৎসরিক ২৫ থেকে ৭৫ ইউরো ব্যয় আপনার হতে পারে।

এই খরচের হিসেবটা আনুমানিক একজনের একা থাকার ক্ষেত্রে বিবেচ্য। তাছাড়া শহর ভেদে এ খরচ কম-বেশি হতে পারে। এদেশে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য স্টুডেন্ট এপার্টমেন্ট আছে। সাধারণত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই এধরণের আবাসনে বসবাস করে।

আর স্টুডেন্ট এপার্টমেন্টগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আশে পাশে হওয়াতে যাতায়াত খরচ অনেকটা কমে যায়। তবে এদেশে দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক যাতায়াত কার্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো অনেকটাই সাশ্রয়ী ও সবধরনের যানবাহনের জন্য ব্যবহার করা যায়। এত  অল্প খরচের কারনে ফিনল্যান্ড উচ্চশিক্ষার স্বর্গরাজ্য বাংলাদেশিদের জন্য।

ফিনল্যান্ডের স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া ও ব্যাংক ব্যালেন্স

বাংলাদেশে ফিনল্যান্ডের কোন দূতাবাস না থাকায় স্নাতক স্তরে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিংবা স্নাতকোত্তর স্তরে অফার লেটার পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিস্থ ফিনিস দূতাবাসে ভিসার আবেদনপত্র জমা দিতে হয়।

ফিনল্যান্ডের স্টুডেন্ট ভিসার জন্য নিরধারিত ফর্ম ডাউনলোড করে স্পস্ট অক্ষরে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী পূরণ করে জমাদানের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র ও নম্বরপত্রের আসল কপি, বীমাপত্রের (Insurance Paper) আসল কপি, জন্মনিবন্ধন সনদপত্র, ইংরেজী ভাষা দক্ষতার সনদপত্র।

(টোফেল অথবা আইইএলটিএস-এর স্কোর) ব্যাংক সার্টিফিকেট ও তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্টের মূলকপি দেখাতে হবে। আবেদনপত্র এবং অন্যান্য কাগজপত্রের ২ সেট ফটোকপি ভিসার জন্য নির্ধারিত সাইজের ৪ কপি ছবিসহ আপনাকে জমা দিতে হবে।

ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নিজ নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬,০০০ (ছয় হাজার) ইউরো সমমান টাকা এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত জমা রাখার প্রয়োজন হতে পারে। সব রকমের শিক্ষার্থীর জন্য ফিনল্যান্ডের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া একই রকমের।

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা অর্জনকালীন আয়ের সুযোগ

অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ফিনল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম সবল দেশের মধ্যে একটি। সাম্প্রতি বিশ্ব মন্দা কবলিত হলেও ফিনল্যান্ডে সার্বিক দিক দিয়ে এর প্রভাব এতটা ভয়াবহ মোটেই নয়। আর এখন এদেশের অর্থনীতি কেবলই উন্নতির দিকে চলছে।

উচ্চশিক্ষার সর্গরাজ্য ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে কাজ করার প্রচুর সুযোগ যা ইউরোপের যে কোন দেশের তুলনায় নিঃসন্দেহে অনেক ভাল। এখন পর্যন্ত কাজ কর্ম নিয়ে কেউ বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে বলে শোনা যায়নি, বরং সবাই আসার কয়েক মাসের মধ্যেই মোটামুটি একটা কাজ যোগাড় করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের সুবিধামত সময়ে খণ্ডকালীন কাজ করারও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। সাধারণ সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজের আইনি বৈধতা রয়েছে। তবে চেনা পরিচিত লোকজন না থাকলে নতুন অবস্থায় এসে কাজ পেতে সমস্যা হয়। নূন্যতম ৬ মাসের খরচের অর্থ সঙ্গে নিয়ে এলে অনিশ্চয়তা অনেকটা কেটে যায়। কারণ তত দিনে একটা কাজ জুটে যায়।

খণ্ডকালীন কাজ সাধারনত ক্লিনিং কোম্পানিগুলোতেই হয়। এছাড়া হোটেল কিংবা বাংলাদেশিদের ফাস্ট ফুডের দোকানে কাজ পাওয়া যায়। কারণ অন্যান্য কাজ পেতে হলে ফিনিস কিংবা সুইডিস ভাষা জানা আপনার জন্য অপরিহার্য।

অনেকটা স্বাধীনভাবে কাজ করার মতোই। এরকম কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারলে পরে তথ্য-প্রযুক্তির চুক্তিভিত্তিক, এমনকি স্থায়ী চাকরিও হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যারা বুদ্ধিমান তারা এ ধরনের কাজকে তাদের কোন একাডেমিক প্রজেক্ট হিসেবে নিয়েও ক্রেডিট নিতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তির শিক্ষার্থীদের জন্য ফিনল্যান্ডে চাকরির বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল আছে। নকিয়া ছাড়াও অন্যান্য সফটওয়ার ফার্মে কাজ পাওয়ার ভাল সুযোগ রয়েছে। প্রথম বছর হয়তো একটু কষ্ট হয়। কিন্তু কোর্সের নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্রেডিট সম্পন্ন করার পর কাজ পেলে কিংবা বৃত্তি পাওয়া গেলে তখন কোন চিন্তা থাকে না।

আশাকরি আজকের আলোচনা উচ্চশিক্ষার সর্গরাজ্য ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা অর্জন, ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সুবিধা , উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন , প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইত্যাদি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এছাড়া ফিনল্যান্ডে পড়াশোনা নিয়ে কোন কিছু জানার থাকলে এবং পোস্ট কি কেমন লেগেছে তা কমেন্টে অবশ্যই জানাবেন । ধন্যবাদ