টিউশন ফি ছাড়া পড়া যায় আমেরিকার ৮ টি বিশ্ববিদ্যালয়

0
159
টিউশন ফি ছাড়া পড়া যায় আমেরিকার ৮ টি বিশ্ববিদ্যালয়
টিউশন ফি ছাড়া পড়া যায় আমেরিকার ৮ টি বিশ্ববিদ্যালয়

টিউশন ফি ছাড়াই আমেরিকাতে পড়াশুনা

আমার প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনারা কেমন আছেন। আশা করি ভালো আছেন। আজ আমি আপনাদের জানাবো কিভাবে টিউশন ফি ছাড়া পড়া যায় আমেরিকার ৮ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা-

টিউশন ফি ছাড়া পড়া যায় আমেরিকার ৮ টি বিশ্ববিদ্যালয়

পৃথিবীর সবাই জানে আমেরিকাতে পড়াশুনা করাটা খুবই ব্যয়বহুল। মধ্যবিত্ত পরিবাররের জন্য তা খুবই কস্টকর। এমনকি আমেরিকার শিক্ষার্থীরাই পড়াশুনা করতে টাকার অভাবে পরে যান। সেই তুলনায় আমরা কিভাবে সেখানে পরাশুনা করতে পারবো। কিন্তু বন্ধুরা চিন্তার কোন কারন নেই। আমেরিকাতে এমনো অনেক কলেজ রয়েছে যেখানে, টিউশন ফি ছাড়াই অল্প খরচে পড়াশুনা করার কিছু সুযোগ রয়েছে।

এই টিউশন ফি ছারাই শুধু পড়াশুনা করতে পারে ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীরাই। অর্থ্যাৎ সারা পৃথিবীর শিক্ষার্থীরাই এই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারবে। সে জন্য আপনাকে এমন একটা স্কলারশিপ জোগার করতে হবে। যেন টিউশন ফ্রি ছারাই আপনি পড়াশুনা চালাতে পারেন। কিংবা বিনা খরচে আপনার পড়াশুনার খরচ হতে পারে এমন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে।

সে জন্য আপনাকে সব বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে চোখ রাখতে হবে। এই কাজটা আপনার কাছে কঠিন মনে হলেও আপনি চেষ্টা করলেই পেতে পারেন এই সুযোগটি। তাই আজ আমি আপনাদের জানাবো, টিউশন ফ্রি ছারা পড়া যায় এমন ৮ টি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত তর্থ। আপনি স্কলারশিপ না পেলেও এই বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি হয়ে আপনার আমেরিকা পড়ার স্বপ্ন পূরুন করতে পারবেন। তাই টিউশন ফি ছাড়া পরা যায় এমন ৮ টি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বিস্তারিত তর্থ্য নিচে আলোচনা করা হল..।

১। বেরিয়া কলেজ

১৮৬৫ সালে স্থাপিত ক্যান্টারির এই প্রাইভেট কলেজ টি মুলত লিবারেল আর্টসের উপর কোর্স offer দিয়ে থাকে। এই কলেজে সব ছাত্রের টিউশন ফি সহ ২৫ হাজার ডলারের সমপরিমান স্কলারশিপ
পাওয়ার সু্যোগ রয়েছে। এই খানে থাকা খাওয়ার জন্য আলাদা কাজের ব্যবস্থা রয়েছে। আর এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয় লির্বার প্রগ্রাম। এর অধিনে আপনি সপ্তাহে ১০ ঘন্টা কাজ করতে পারবেন। আর ৪ হাজার পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেতে পারেন। আপনি যদি কাজ পান তাহলে ঘন্টা প্রতি আপনি ৩ থেকে ৭ ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন।

২। এলিস লয়েড কলেজ

এই কলেজটি ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কলেজটি ক্যান্টারি পিপরা পাস নামক জায়গায় অবস্থিত। এই কলেজে রয়েছে business human development manufacturing ইত্যাদি বিষয়ের উপর ৪ বছর মেয়াদে কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। সপ্তাহে আপনি ১০ ঘন্টা কাজ করলে টিউশন ফি ছাড়াই এখানে থাকতে পারবেন। এজন্য এখানে ৫৫০ টি আসন কলেজ থেকে বরাধ্য করা আছে। এখানকার সব ছাত্র একটি করে ফি ল্যাপ্টপ পেয়ে থাকে। এছাড়াও এখানে স্কলারশিপ সহ অনান্যা আর্থিক সাহায্যর জন্য আবেদন করতে পারে।

৩। ওয়েব ইনিস্টিটিউট অফ নাভাল

এই ইনিস্টিটিউট ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। নিউইয়র্ক এর লক আইল্যান্ডে অবস্থিত। এই কলেজটি আমেরিকার প্রথম সারির কলেজ গুলোর মধ্যে অন্যতম। এই কলেজটি আমেরিকার অনেক পুরুনো প্রতিষ্ঠান। এই কলেজে মূলত মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ও নাভাল কনস্টার্কসন পরানো হয়। তাই এই কলেজটি কে মানসম্মত কলেজ হিসাবে বলা হয়ে থাকে। এখানে ছাত্রদের শুধু স্কলারশিপ নিয়ে ৪ বছরের কোর্স করে থাকে শুধু তাই নয় এখান থেকে কোর্স শেষ করে চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে ১০০%।

৪। কলেজ অফ দ্যা ওজারস্ক

এই কলেজটি মিশরে অবস্থিত। এই কলেজটি হচ্ছে একটি খ্রিষ্টান কলেজ। অথ্যাৎ এখানে খ্রিষ্টান ধর্মালম্বী ও ধর্ম বিশ্বাস মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। তাই সারা বিশ্বের ছাত্রদের জন্য একটি ভালো প্রতিষ্ঠান হতে পারে। বিজনের্স শিক্ষা ও বিজ্ঞান সহ বিভিন্ন ধর্মের বিষয় নিয়ে পরার সুযোগ থাকে এই কলেজে। প্রতি বছর এই কলেজ থেকে ১৪০০ জন ছাত্র কে স্কলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে এই কলেজে ফি পড়াশুনার জন্য আপনাকে সপ্তাহে ১৫ ঘন্টা কাজ করতে হবে। আবার কখনো এর থেকেও বেশি কাজ করতে হতে পারে। এটা খারাপ কি যদি কাজ করে টিউশন ফি ফ্রি ছাড়াই পড়াশুনা করা যায়।

৫। দ্যা কারটিস ইনিস্টিটিউট অফ মিউসিক

এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানটির নাম শুনে বোঝা যায় যে শুধু সংগীত বিষয়ে পড়াশুনা করা হয়ে থাকে। এটি ফেডারেল ফিয়ারে অবস্থিত একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। এই
প্রতিষ্ঠানে সংগীতের উপর মাস্টার্স এবং ব্যাচেলর করার সু্যোগ রয়েছে। যদি এটি আপনার পছন্দের বিষয় হয়ে থাকে তাহলে আপনি আমেরিকায় এই প্রতিষ্ঠান থেকে সংগীতের উপর উচ্চ শিক্ষা নিতে পারেন। এই প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর মাত্র ১৬৫ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়ে থাকে। এখানে শিক্ষার্থী কম হওয়ার কারনে শিক্ষকরা খুব মনোযোগের সাথে তাদের শিক্ষা দিয়ে থাকে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিনা খরচে পরার সু্যোগ পায়।

৬। সিটি বিশ্ববিদ্যালয় অফ নিউইয়র্ক

এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটি আমেরিকার সবথেকে বড় শহরের কেন্দ্রে university system। গোটা নিউইয়র্ক জুরে এর ২৪ টি ক্যাম্পাস রয়েছে। তার মধ্যে কমিউনিটি কলেজ সিনিয়র কলেজ আন্ডার গ্রাজুয়েট ও পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে। এই system এ অর্ন্তরভুক্ত হওয়ার ফলে এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা খুবই উন্নত। এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক একাডেমিতে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক ছাত্র স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারে। শুধু তাই নয় এখান থেকে পাশ করার পর নিউইয়রকের স্কুলে শিক্ষক হিসাবে চাকরি করতে পারবেন আপনিও।

৭। ফ্লাংলিংক ডব্লিউ অলিন কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিজ্ঞ

বোস্টম থেকে ১৪ মাইল উত্তরে ম্যাচাচুয়েস্টের নিড হ্যামে এই ইঞ্জিনিয়ারিজ্ঞ কলেজটি অবস্থিত। এই প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি হলে প্রত্যেক ছাত্র ৫০% স্কলারশিপ পেতে পারে। আর আপনিও হতে পারেন সেই সৌভার্গবান ব্যক্তি। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৮ সালের জরিপ মোতাবেক এই প্রতিষ্ঠানটি আপনার টাকা দিয়ে দেয়।

এই কলেজ মেরিন ও স্কলারশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর ভর্তি হওয়া ছাত্রদের অর্ধেক কে এই সু্যোটি দেওয়া হয়ে থাকে। এই স্কলারশিপের মোট পরিমান ১ লাক্ষ ডলারের উপরে। যা প্রত্যেক ছাত্রদের জন্য ২৫ হাজার ডলারের বেশি। তবে এখানে প্রয়োজন অনুসারে নিড পেজ স্কলার্শিপের ব্যবস্থা রয়েছে।

৮। দ্যা প্রিন্স কলেজ

ক্যালিফর্নিয়ার মরু ভূমিতে এই কলেজটি অবস্থিত। আর এই কলেজটিতে ২ বছর ব্যাপি কোর্স অফার করা হয়ে থাকে। আপনি এখানে ভর্তি হলে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ পেতে পারেন। এখানে থাকা খাওয়ার জন্য কলেজের নিজস্ব ফার্মে আপনাকে সপ্তাহে কমপক্ষে ২০ ঘন্টা কাজ করতে হবে।

আর এই সু্যোগটি শুধুমাত্র পুরুষ ছাত্রদের জন্য। আর এই কলেজটি আমেরিকার মধ্যে উচ্চ শিক্ষার জন্য। উচ্চ শিক্ষার যত প্রতিষ্ঠান রয়েছে সে গুলোর মধ্যে এই কলেজটি অনেক ছোট। প্রত্যেক বছর ৩০ জনের বেশি ভর্তি করা হয়না। তাই এই কলেজটিতে ভর্তি হওয়া খুবই কঠিন।

তাই সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীরা এই কলেজ গুলোতে কম খরচ ও টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশুনা করতে পারেন এই ৮ টি কলেজে। আপনারা যারা আমেরিকাতে পড়তে যাওয়ার জন্য চিন্তা ভাবনা করছেন। আশা করি এই কলেজ গুলো তাদের জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনবে। তাই আমার বন্ধুরা একবার চেষ্টা করে আপনিও আপনার স্বপ্নটা পুরন করতে পারেন। আপনি আরও পড়তে পারেন, আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষা সম্পর্কে।

বন্ধুরা আমার পোষ্টা যদি আপনাদের কাছে ভালো লাগে তাহলে কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানাবেন। ধন্যবাদ।