অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ । অস্ট্রেলিয়ার স্কলারশিপের তথ্য

0
161
অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ । অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের যোগ্যতা , সুবিধা , আবেদন
অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ । অস্ট্রেলিয়ার স্কলারশিপের তথ্য

অস্ট্রেলিয়ান সরকার প্রদত্ত অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ (Australia Awards Scholarship) বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশকে দেওয়া একটি স্বনামধন্য স্কলারশিপ। অনেকে আছেন যারা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে চান কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে পড়তে পারছেন না। তাদের জন্য অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ একটি অনন্য সুযোগ। আজকে আমরা আলোচনা করবো অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের সুবিধা , আবেদনের যোগ্যতা , প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র ও কিভাবে আবেদন করতে হবে এই সম্পর্কে। চলুন শুরু করা যাক-

অস্ট্রেলিয়া উচ্চশিক্ষা প্রদানের দিক থেকে বিশ্ব তৃতীয় নম্বরে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা গ্রহনের জন্য অস্ট্রেলিয়া আগ্রহের একটি দেশ। অস্ট্রেলিয়ান সরকান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ (Australia Awards Scholarship) এর আয়োজন করে থাকে। যে স্কলারশিপ অস্ট্রেলিয়ায় সর্বোচ্চ স্কলারশিপ। আপনি যদি বিনা খরচে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে চান তাহলে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ আপনার জন্য একটি সুরর্ণ সুযোগ দিবে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের সুবিধা অনেক। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের যোগ্যতা , কাগজপত্র ও কিভাবে আবেদন করতে হয় এসব জেনে আপনিও আবেদন করুন অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের জন্য।

অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ

অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ (Australia Awards Scholarship) প্রোগ্রাম সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। এটি এমন একটা প্রোগ্রাম যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারে। এটি অস্ট্রেলিয়ার ডেভলপমেন্ট স্কলারশিপ (ADS) নামেও পরিচিত। পারস্পারিক সহযোগিতা ও সম্মৃদ্ধির বৃদ্ধির জন্য অস্ট্রেলিয়ার সরকার অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ (Australia Awards Scholarship) প্রোগ্রাম চালু করেন। এই অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ (Australia Awards Scholarship) প্রোগ্রাম মেধার উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ থেকে ব্যাংক, এনজিও, জুডীশিয়াল, বিসিএস পাবলিক সেক্টরের কর্মকর্তারা এই অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া নতুন উদ্দ্যেগ তাদের বিশেষ ভাবে অনুপ্রানিত করা হয়ে থাকে। অস্ট্রেলিয়ার এই অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের আওতায় Graduate, Post Graduate করার সু্যোগ দিয়ে থাকে। কিন্তু কোন কোন বছর বাংলাদেশ থেকে আবেদন চাওয়া হয় মাস্টার্স ডিগ্রীর জন্য। হালনাগাদের
সব তথ্য অস্ট্রেলিয়ার ওয়েব সাইট থেকে জেনে নিতে হবে। এই স্কলারশিপের নাম হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ।

আপনি যে যে বিষয়ে পড়তে পারবেন অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের (Australia Awards Scholarship) আওতায় তা হল  Under Graduate এবং Post Graduate দুটোই সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। আপনি কোন কোন বিষয়ে পড়তে চাইছেন এই স্কলারশিপের আওতায় তা জানার জন্য আপনাকে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট দেখতে হবে।অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপটি (Australia Awards Scholarship) অস্ট্রেলিয়ার সরকার, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বানিজ্য বিভাগ প্রদান করে  থাকে।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের সুযোগ সুবিধা

অস্ট্রেলিয়ার এই অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তা জানলে আপনি আরো আগ্রহী হয়ে যাবেন অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ সমন্ধে। অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের যে সব সুযোগ সুবিধা রয়েছে তা নিচে দেওয়া হলো

  • সব টিউশন ফি
  • আপনাকে একটা মাসিক ভাতা প্রদান করা হবে
  • এই স্কলারশিপ দিয়ে আপনার যাতায়াত এর বিমান ভাড়া হয়ে যাবে
  • আপনার স্বাস্থবিমা ফি হয়ে যাবে
  • আপনি পৌছানোর পর এস্টাবিলিশ ভাতা পাবেন
  • আপনার অভ্যন্তরিন যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হবে

তাহলে আমার বন্ধুরা বুঝতেই পারছেন অস্ট্রেলিয়ার স্কলারশিপ টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার এই অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের প্রতিযোগিতা তুলনামুলক ভাবে একটু বেশিই হয়ে থাকে। আপনার রেজাল্ট ও অন্যান্য কারিকুলাম একটিভিটিজ যদি ভাল হয়ে থাকে তাহলে আপনি অন্যদের তুলনায় ভাল করতে পারবেন। অস্ট্রেলিয়ার এই স্কলারশিপ এর সুযোগ সুবিধা বেশী থাকায় আমি আপনাদের বলবো আবেদন করতে।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের আবেদনের যোগ্যতা

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের আবেদন করতে আপনার কি কি যোগ্যতা লাগবে তা নিচে দেওয়া হল –

  • এই অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপে আবেদন করার সময় আপনার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
  • অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ এর ওয়েবসাইটে দেয়া তালিকা ভুক্ত দেশের নাগরিক হতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার চিন্তার কোন কারন নাই। কারন বাংলাদেশ এই স্কলারশিপে আবেদনের জন্য যোগ্য আর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপে আবেদন করতে পারে। সুতরাং আপনার জন্য হতে পারে সুবর্ন সুযোগ।
  • অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বা নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী বাসিন্ধা হলে হবে না।
  • বর্তমানে সেনাবাহিনীতে চাকুরীরত অবস্থায় থাকলে হবে না।
  • অস্ট্রেলিয়ায় অন্য কোন দীর্ঘমেয়াদী অ্যাওয়ার্ড এর জন্য আবেদন কারী এবং এই সময়ে ২ বারের বেশি অস্ট্রেলিয়ার বাহিরে না থাকা।
  • নিজ দেশের যে কোন একটি নিদিষ্ট সেক্টরে সুনাম অর্জন কারী কোনো কাজ করা বা একটি নিদিষ্ট সময়ে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা।
  • অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের জন্য IELTS স্কোর ৬.৫ থাকতে হবে।

এই সকল তথ্য যদি আপনার ক্ষেত্রে সঠিক হয়ে থাকে তাহলে আপনি অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের আবেদনের যোগ্যতা পেয়ে যাবেন। এবং আপনি আবেদন করতে পারবেন।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের জন্য কিভাবে আবেদন করতে হবে

অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ এর আবেদনের প্রক্রিয়ার জন্য মার্চ এবং এপ্রিলে সাধারনত গ্রহন করা হয়ে থাকে। যেসব দেশের প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তা হল এশিয়া প্যাসিফিক, আফ্রিকা ও মিডল ইস্টের দেশের নাগরিক এই অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ (Australia Awards Scholarship) এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ সহ উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য এটি উন্মুক্ত।

প্রথমে আপনাকে অফিসিয়াল ওয়েব সাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে হবে। তারপর আপনি যাচাই করুন আপনি এই সু্যোগ লাভের উপযোগী কি না। আপনি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর খোজ রাখুন প্রয়োজনে কাগজ পত্র তৈরী করে রাখুন এবং পরে অনলাইনে আবেদন করুন। আবেদন করার পর লিখিত ও মৌখক পরীক্ষা নেওয়া হবে। তারপর আপনাকে দেওয়া হবে পরীক্ষার রেজাল্ট। অনলাইনে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে তাদের ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র দিয়ে আপনাকে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ এর জন্য আপনাকে যে যে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নিতে হবে-

  • সকল সার্টিফিকেটের ও মার্কশীটের ফটোকপি।
  • সিভি,মোটিভেশন লেটার ও রিকমেন্ডেশন লেটার।
  • বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র।
  • পাসপোর্টের ফটোকপি ও পাসপোট সাইজের ছবি।
  • রেফারেন্স লেটার। এই লেটারটি খুবই গুরুত্বপুর্ন বিষয়।
  • আইইএলটিএস / টোফেল (IELTS/ TOFEL) স্কোর
  • স্টেটমেন্ট অফ পারপাস

এই ডকুমেন্ট গুলো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই আপনারা অস্ট্রেলিয়ার স্কলারশিপ এর জন্য  আবেদন করার সময় অবশ্যই সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট থেকে বিস্তারিত তথ্য জেনে আবেদন করবেন। কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন পড়ে তা ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত জেনে নেবেন। আর আবেদনের সময় সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে নজর রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ন।

পরিশেষে আরেক টি কথা এখানে ব্যচেলরদের আবেদন গ্রহন করা হয়ে থাকে। তো যারা ব্যচেলর আছেন তারা এই অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ জন্য অবশ্যই আবেদন করবেন। আপনি চেষ্টা করুন বাকিটা আল্লাহ ভরসা। বন্ধুরা আশা করি পোষ্ট টি পড়ে আপনাদের অনেক উপকার হয়েছে। আপনি যদি অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপ (Australia Awards Scholarship) এর জন্য যোগ্যতা রাখেন তাহলে অবশ্যই আপনি এই অ্যাওয়ার্ড স্কলারশিপের জন্য আবেদন করবেন। আপনাদের জন্য রইলো শুভ কামনা।

আপনি আরো পড়তে পারেন অস্ট্রেলিয়ায় কিভাবে স্কলারশিপ পাওয়া যায়ধন্যবাদ